Friday, October 5, 2012

এভাবেই চলছিল বেশ

এভাবেই চলছিল বেশ। ও প্রায়ই বলতো, তোমাকে অনলাইনে না দেখলে সব কেমন যেন খালি খালি লাগে। তখন ওকে যে কতটা ভালোবাসি, বাসতাম সেটা একটু একটু করে এক্সপ্রেস করতাম। প্রিয়তিও প্রায়ই বিভিন্ন প্রশ্ন করতো এ নি
য়ে। বুঝতে পারতাম, ওর এগুলো শুনতে ইচ্ছে হয়, ভালো লাগে। তাই মনের মাধুরি মিশিয়ে ওকে বলতাম। মনে হতো ও বুঝি মুগ্ধ বিস্ময়ে শুনছে আর ভাবছে, একটা ছেলে আমাকে এত্ত ভালোবাসে অথচ আমিই জানি না। ধীরে ধীরে সব গল্প ওকে শোনালাম। তার সম্পর্কে কি কি জানি সব, কলেজের শেষ দিন কেমন বোধ করছিলাম, ওর রোল নং কিভাবে বের করেছি, ওকে কিভাবে ফেসবুকে খুঁজে পেয়েছি- সব বলেছি। ও ঐদিন অনেক মুগ্ধ হয়েছিল। বললো, তোমাকে আমি অনেকবার এফবি তে দেখেছি। আমি যদি জানতাম, তুমি এত কষ্ট করছো, তাহলে সত্যি, আমি নিজেই তোমাকে রিকোয়েস্ট পাঠাতাম। বললাম,

- যেদিন তুমি স্বীকার করলে তুমি প্রিয়তি, সেদিন আমি বলেছিলাম, বুকচিরে একটা দীর্ঘশ্বাস নেমে আসল। এখন বুঝতে পারছো, কেন বলেছিলাম সেটা?
-বুঝতে পারছি
-আমি জানি, আমি তোমাকে পাবো না। তবুও এত কষ্ট করে কেন তোমাকে খুঁজেছিলাম, জানো?
-কেন?
-শুধু তোমার একটু কাছে থাকার জন্য। যাতে মনে হয়, তুমি আমার পাশেই আছো।
-আজব! আমার চোখে পানি।
-আমারো। চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে।
-প্লিজ একটু হাসো। আমার জন্য হলেও হাসো প্লিজ।
- smile
-তুমি আমার সেরা বন্ধু হতে পারতা। কিন্তু...
-কিন্তু কি?
-কিন্তু এখন তুমি আমাকে ঠিক বন্ধুর মত ভাববা না। আমিও আড়ষ্ট বোধ করবো।
-হূম। বুঝতে পারছি, ভালোবেসেই ভুল করে ফেলেছি। কিন্তু ভেবে দেখ, তোমাকে যদি ভালো না বাসতাম, তাহলে তোমার জন্য এত অনুরাগ জন্মাতো না এবং আজ তুমিও জানতে না এটা। অর্থাৎ তোমাকে ভালো না বাসলে, কখনই তোমার এমনটা মনে হওআর প্রশ্নই উঠতো না।
-হূম। আমার আজব মনে হয় কি, জানো? একটা ছেলে আমাকে এত্ত বেশি ভালোবাসে, অথচ আমি সেটা একটুও বুঝতে পারিনি। ফেসবুকে না আসলে হয়তো জানতেও পারতাম না কোনো দিন। কত ছেলে কত হাজার ভাবে বোঝাতে চাইত তারা আমাকে পছন্দ করে। আর তুমি এত্ত ভালোবেসেও, আমাকে জানানোর একটুও চেষ্টা করোনি কেন?
-তোমাকে নিরবেই ভালোবেসে যেতাম। আর তোমার কাছে যেতেই সাহস পেতাম না, তোমাকে এই কথা বলার সাহস কোথায় পাবো, বল?
-তোমার সাহস হবেও না কোনোদিন
-কেন? কলেজে প্রপোজ করলে, অ্যাকসেপ্ট করতা নাকি?
-হুঁহ! বয়েই গেছে আমার। এত্ত সহজ না।
-গান শুনছি। তোমার প্রিয় একটি গান।
-কি গান? আর কি করে জানলা, ওটা আমার প্রিয়?
-তেরে ওর। একবার ক্লাসে তোমরা একা ছিলা। গানটা চলছিল, আমি বারান্দা দিয়ে যাওয়ার সময় শুনেছিলাম। গানটা এমনিতেই রোমান্টিক। তাই দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাতে অসুবিধে হয়নি।
-হুম। গ্রেট! গানটা আমার আসলেই অনেক ফেভারিট।

এভাবেই চলতেই থাকলো। কত কথা যে হতো, তার কোন ইয়ত্তাই নেই।

-আজ আমাদের সাবলেটের সামনে একটা অ্যাকসিডেন্টে একটা ছেলে মারা গেছে। তুমি জানো, আমি না রাস্তায় খুব অসাবধান থাকি।
-এখন থেকে সাবধানে হেঁটো। পরে হাঁত পা ভাঙলে, কেউ বিয়ে করবে না তোমাকে।
-কেন? তুমি তো আছো। তুমিও করবা না?
-অবশ্যই। বিলিভ মি, ইউর ফিজিক্যাল সিটুয়েশন ডাজেন মিন এনিথিং টু মি। ইফ ইউ ওয়ান্ট, আই উইল শিউরলি মেরি ইউ, হোয়াটএভার ইউ আর।
-যাক বাবা!
-এক কাজ করো। তুমি সফটলি একটা অ্যাকসিডেন্ট ঘটাইয়া ফেল! তখন তোমাকে কেউ বিয়ে করবে না। আর আমি তো আছি ই!
-পরে যদি মরে যাই?
-না না। ওরকম বড় ঝামেলা করবা কেন?
-কি! তোমার এত বড় সাহস, তুমি আমারে অ্যাকসিডেন্ট ঘটিয়ে আমার হাত-পাঁ ভাঙতে বল! দাড়াও, ফয়সাল ভাইয়ারে বলে তোমারে যদি আমি জেলে না ঢুকাইসি!
-ওরেব্বাপ! প্লিজ মাফ করে দাও। ঐ দারোগা তোমার অভিযোগ সত্যি সত্যি আমলে নিতে পারে! পরে জেলের ভাত খেয়ে আমি জেলের মধ্যেই পঁচে মরবো!

এত আনন্দের মাঝেও একদিন একটু সমস্যা হয়ে গেল। তবে আল্লাহ তায়ালার কাছে লাখো শোকর, এই সমস্যা সৃষ্টির জন্য। সেদিন চ্যাট হচ্ছিল। অনেক দুষ্টুমি করছিলাম। হঠাৎ ও বললো,
--আচ্ছা আমরা এত ঘন্টার পর ঘন্টা এরকম অর্থহীন চ্যাট করছি কেন? এর কি আদৌ কোন দরকার আছে? আসলেই বেশি হয়ে যাচ্ছে।
-তাহলে লিমিটেশন আনো। (মনে খুব দুঃখ পেয়েছিআম কথাটা শুনে)
-উম....দুইদিন পর পর এক ঘন্টা।
-দুইদিন পর পর?!
-না না। তাহলে আমি সেই দুইদিনের জন্য বসে থাকবো।
-তাহলে?
-জানিনাহ! তুমি আমারে নক করবা না। দরকার হলে আমি ই নক করবো।
-অর্থাৎ তুমি অনলাইন থাকবা, কিন্তু আমি নক করবো না? মানে, আমার সাথেই সমস্যাটা?
-জানি না।

এভাবেই ঐদিন সকালের চ্যাট শেষ। খারাপ লাগছিল খুব। একে তো চ্যাট হচ্ছে না, এরমধ্যেই বিকেলে কিছু 'বন্ধু'র উপর রাগ করে একটা স্ট্যাটাস দিলাম। কিন্তু, ও ভুল বুঝলো। ভাবলো, ওকে মিন করেই স্ট্যাটাসটা দেওয়া। আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আমি এড়িয়ে গেলাম, এক পর্যায়ে রিপ্লাই অফ করে দিলাম। রিপ্লাই না পেয়েই বোধ হয়, সন্ধ্যার দিকেই ও ফোন দিল! পরিচয় দিয়ে বললো, কালকেই সিম চেঞ্জ করে ফেলবো, তাই ফোন দিলাম। এই বলেই স্ট্যাটাস দেয়ার হেতু জানতে চাইল। নাহ! এবার অস্বীকার করার একদম সাহস হয়নি। বললাম, কিন্তু বিশ্বাস করেছে বলে মনে হয়নি। বুঝলাম, আমাকে ভুল বুঝে কষ্ট পেয়েছে ও। এটাও এক অদ্ভুত যন্ত্রণা।

এদিকে ফয়সাল ভাই তখন বাড়িতে। ভাইয়া ঠিকই শীতল ভাবটা বোধ করতে পারছিলেন। তাই উনি বারবার প্রিয়তিকে জিজ্ঞেস করছিলেন, কি হয়েছে তোদের? কিন্তু ও রিপ্লাই দিচ্ছিল না। পরদিন শুক্রবার, সকাল থেকেই চেহারাটা খুব গুমোট। যেকোনো সময় ওখানে ঝড়ের বেগে বৃষ্টি নামতে পারে। ভোরবেলা থেকেই চ্যাটবক্স অন, এই আশায়, যদি ও একটিবারের জন্য এসে রিপ্লাই দেয়। কিন্তু কাল সকাল থেকে ওর দেখা নেই। হঠাৎ ১০ টার দিকে ওকে অনলাইন পেলাম। এতক্ষন ধ্যানমগ্ন হয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কাউকেই রিপ্লাই দিচ্ছিলাম না। ওকে দেখতে পেয়ে যেন ধ্যান ভাঙল। কিন্তু কি আজব! আজ আর নক করছে না, আমারও নক করার সাহস হচ্ছে না। মনে হচ্ছিল ও বুঝি অন্য কারো সাথে চ্যাট করছে। এটা ভাবলেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠত। কিন্তু বাস্তব কথা হচ্ছে, তারও তখন আমার মত অবস্থা! কিন্তু সেটা তো আর আমার জানার সুযোগ নেই। তাই কষ্ট পাচ্ছিলাম প্রচুর।

সকাল থেকে কিচ্ছু খেতে ইচ্ছে করছিল না। এদিকে প্রিয়তির কাছ থেকে উত্তর না পেয়ে ফয়সাল ভাইয়া এবার আমাকে ধরল। কিন্তু বরাবরের মত এবার ও আমি নিরব। জুমুআ' র নামায পড়ে আসলাম, ভাইয়া জোর করে ভাত খেতে নিয়ে যেতে চাইলেন আমাকে, গেলাম না। ভাইয়া অনেকবার রিকোয়েস্ট করলেন, সব খুলে বলার জন্য, বললাম না। হঠাৎ ভাইয়া ঠাশ করে একটা চড় দিলেন আমার গালে। আমি কিচ্ছু বললাম না, একটুও রাগ হয়নি আমার সত্যি, কারন এটা আমার প্রাপ্য ছিল। চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলাম, ভাইয়া চলে গেল, ভাত না খেয়েই। বিকেলের দিকে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। অশ্রু নিশ্চুপ কিন্তু ঝড়ো বেগে বয়ে যেতে শুরু করল আমার গাল বেয়ে।
ঐ সময় ই তার স্ট্যাটাস পেলাম-

"মন ভালো নেই
বারবার মনে হয়,
তুমি পাশে নেই।
ভাবি ধুর ছাই,
কেনো কাটে না সময়।
সাত টি রঙে তোমাকে খুঁজে বেড়াই,
বৃষ্টি শেষে দেখা না পেলে,
বড় অভিমান হয়।
রাত কাটে নির্ঘুম
আমি নিশ্চুপ
বিস্ময়ে ভেবে যাই,
ভালোবাসি তোমায়....এতটা"

দেখেই মনে হয়েছিল, এটা আমার জন্যই দেয়া। এটা দেখে কান্নার বাঁধ আর আটকাতে পারিনি। আমার খুব ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে ফোন দিলাম। এতক্ষন নিঃশব্দে কাঁদছিলাম, বন্ধুকে পেয়ে কান্নারা যেন আরো গতি পেল। আমাকে অনেক করে বোঝালো সে। কিন্তু আমার তখন কিচ্ছু ভালো লাগছে না। কথা শেষ করলাম, কিন্তু কান্না শেষ হয়নি। কি ভেবে যেন প্রিয়তির নাম্বারে এস এম এস করলাম, তোমার সাথে শেষ বারের মত একটু কথা আছে। ফোন ধরবা? সম্মতি জানিয়ে ফিরতি এস এম এস পাঠালো। ফোন করলাম, ওর গলার আ ওয়াজ পেয়েই সব উবে গেল, তার উপর আমাকে অপরিচিতজন দের মত আপনি করে সম্বোধন করল। তার গলা ছিল আপসেট। আমি কিছুই বলতে পারলাম না, পাছে আমি কাঁদছি ও বুঝে ফেলে। তাই 'কিছু না' বলেই ফোন রেখে দিলাম।

সাথে সাথেই আবার ফোন দিল ও। বললো, কি বলবেন বলেছিলেন, রেখে দিলেন কেন?
-জানো, আজ না ভাইয়া আমাকে একটা চড় মেরেছে? (কেন বললাম জানি না। আমি কোন সহানুভূতি চাইনি আসলে)
-কেন? কি করেছো তুমি? এখনই গিয়ে সরি বলো।
-জানি না কেন। আমাকে বার বার, কি হয়েছে, তা জিজ্ঞেস করছিলেন, বলছিনা দেখেই....
-একটা কাজ করো, তুমি আমাকেও একটা চড় মারো। (কেঁদে ফেলল প্রিয়তিও)
-কেন? তোমাকে মারবো কেন?
-আমার জন্যই তো সব, না? আমি না থাকলে এসবের কিছুই হতো না। আমিই চলে যাচ্ছি।
বলেই ফোন রেখে দিল। পুনরায় করার সাহস হলো না। ২০ মিনিট পর ওর ফোন, ধরলাম, ৫ সেকেন্ড পর কিছু না বলেই ফোন রেখে দিল। এরপর থেকেই ফোন অফ। বুঝলাম, আমাকে জানিয়ে রাখাই ছিল উদ্দেশ্য। খুব কষ্ট পেলাম। একটা এস এম এস পাঠালাম। কিছুক্ষন পর ফিরতি বার্তা আসল, ফোন করো না। আমি আজকেই সিম চেঞ্জ করবো, ফেসবুক আইডিও ডিঅ্যাকটিভেট করে দেবো। কষ্টটা বহুগুণ বাড়ল মনে হলো , কথাগুলো শুনে। ওকে পাওয়ার আশা না করেই ভালোবেসেছি। কিন্তু ফেসবুক থেকে চলে গেলে অসম্ভব কষ্ট হবে।

আমি ওকে কখনই দায়ী করিনি। কিন্তু সে সম্ভবত সেটা ভাবছে, এটা ভাবলেই আরো খারাপ লাগছিল। অশ্রু ফোঁটা থামেনি এখনও। বারবার ভাবছি,"বৃষ্টি শেষে দেখা না পেলে বড় অভিমান হয়।" আবার ঘন্টা খানেক পর ফোন করল ও। কথা বলার সময়ও ফোঁফাচ্ছিলাম। আমাকে কিছু বোঝালো। ওকে ফেসবুকে অন্তত থাকার জন্য অনুরোধ করলাম, কথা দিলো না। সন্ধ্যার দিকে ও আমাকে এস এম এস করলো,
-আমি এফবি আইডি ডিঅ্যাকটিভেট করে ফেলেছি। বাই। ভালো থেকো। আমি সরি, পারলে আমাকে মাফ করে দিও, জানি করবা না ...তবুও
-(আমি ফোন দিলাম। ফোন কেটে দিল)
-ফোন করো না। আমি এখনই সিম পাল্টে ফেলবো।
-আমি তো তোমাকে কখনই দায়ী করিনি। জীবন গেলেও করবো না। তবুও তুমি এমন করছো কেন?
-না। এতক্ষন ভেবে দেখলাম, সব সমস্যা আমার জন্য। আমি না থাকলে কোন সমস্যাই থাকবে না। সো...
-প্লিজ তুমি যেও না। আমি কথা দিচ্ছি, আমি তোমাকে আর একটুও ডিস্টার্ব করবো না।
-তুমি আমাকে কখনই ডিস্টার্ব করোনি। কিন্তু আমি থাকলে, তুমি নরমাল হতে পারবা না।
-আমি নরমালই আছি। তুমি গেলে আমার অনেক কষ্ট হবে।
-আমি জানি, তুমি আমাকে অনেক ভালোবাস। কিন্তু তোমার বোঝা উচিৎ, আমি আসলে এর যোগ্য নই।
-আমিই আসলে তোমার যোগ্য না। নয়তো তুমি এভাবে অন্তত ফেসবুক থেকে যেতা না।
-তুমি কেন এমন করছো? প্লিজ, তুমি বোঝার চেষ্টা করো। কিছুদিন হয়তো কষ্ট হবে, তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে। সবসময় কষ্ট পাওয়ার চেয়ে তো ভালো, না?
-বরং তুমি এখন চলে গেলে আমার কষ্ট হবে। এই যে দু'ফোঁটা জল স্ক্রিনে পড়ল।
-আমাকে মাফ করে দিও। আমি আর এফবি অন করতে পারবো না। বাট তুমি প্লিজ... চেষ্টা কর...
-কিভাবে চেষ্টা করবো, বল? কোন দিন অন্ধভাবে তো কারো প্রেমে পড়নি, আমার কষ্ট কি করে বুঝবে তুমি?
-তোমার কি অনেক কষ্ট হচ্ছে?
-হ্যা। অসম্ভব কষ্ট। তোমাকে আর ধরে রাখবো না। কিছুক্ষন পর বৃষ্টি নামবে, আজ সারারাত ভিজবো অঝোর বৃষ্টির জলে। নয়তো চোখের জল লুকাবো কোথায়?
-খবরদার, তুমি বৃষ্টিতে ভিজবা না। ভিজলে কিন্তু ভালো হবে না বলে দিচ্ছি। ঐ ভিজবা না কিন্তু, বাসায় যাও। আর ছেলেদের কান্নাকাঁটি করতে নেই।
-না। আমি ভিজবোই। তুমি আমাকে আটকাতে পারবা না।
-পারবো না, কে বললো? আমি বলছি, তুমি ভিজবা না, সো তুমি ভিজবা না।
-প্লিজ, লেট মি গেট হার্ট। অন্তত কষ্টটুকু পেতে দাও।
-মোটেও না। আমি দিবো না। তুমি ভিজবাই?
এই কথা বলেই ফোন দিল। দুইবার ধরলাম না। তিনবারের সময় না ধরে পারলাম না। অনেক কথা হয়েছিল, প্রায় আধাঘন্টা। বলেছিল, আমি যদি কোনোদিন এফবি তে না ফিরি, তুমি কি আর খাবা না?
-খাবো। কিন্তু কষ্টের শেষ সীমায় পৌছানোর পর।
-ধরো, আমি এখন আসলাম, তুমি খাবার খাওয়ার পর আবার যদি চলে যাই?
-সেরকম হলে আসার দরকার নেই। আসলে মন থেকে আসো, সান্তনা দিতে নয়। তুমি কথা দিয়ে আসো যে, আর যাবা না, আমি তোমাকে বিশ্বাস করবো। আর না আসলেও তোমাকে দায়ী করবো না।
-আচ্ছা তুমি আসলে আমার কাছ থেকে কি চাও?
-যা-ই তুমি দাও, তা-ই হাত পেতে নেবো। কষ্ট হলে তাতেই সই।
-তোমার একটা প্রশংসা করি? তোমার ভয়েসটা অনেক সুন্দর। আর অনেক সুন্দর করে কথা বলো তুমি।
-তুমিই প্রথম বলোনি এই কথা। তবে তোমারটা সবচেয়ে বেশি স্পেশাল। আই অ্যাম অনার্ড।
-আচ্ছা গিয়ে খেয়ে নাও, আর এফবিতে গিয়ে দেখ, আমাকে পাবা।

ভালোই লাগছিল বেশ। জানতাম এই নাম্বার থেকে এর পর অগনিত কল আসবে। আমাকে শুধু ধৈর্য্য ধরতে হবে। বাসায় গেলাম, দেখি ভাইয়া বসে আছে। আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, আমাকে ক্ষমা করে দিস ভাই। দুজনেই কাঁদলাম। তারপর বললেন, চল, দুই ভাইতে গিয়ে ভাত খাই। তারপর দুজনেই খাবার খেয়ে নিলাম।

খাবার খাওয়ার পর প্রিয়তির সাথে আবার চ্যাট হল। ও ভাইয়ার কথা জানতে চাইল, বললাম, ও অনেক খুশি হল। বলল, আমার চোখেও জল এসে গেছে। অনেক ভালো লাগছিল দু'জনের, সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে বলে। পরদিন সকালে, ও ব্রেকফাস্ট করতে চাচ্ছিল না, জোর করে পাঠালাম আমি। ঐদিন দুইবার কথা হয়েছে। পরেরদিন অঘটনটা ঘটলো! ও ভাইয়ার সাথে চ্যাট করছিল! ভাইয়া আগেরদিন কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছিলেন। ও ভাইয়াকে বলেই দিল, ভাইয়া, ও (আমি) তো আমাকে প্রপোজই করে না, আমি অ্যাকসেপ্ট করবো কিভাবে?

এই কথা শুনে ভাইয়া অনেক খুশি হয়েছিলেন। বললেন,
-সত্যি বলছিস? তুই সিরিয়াস?
-আজব! আপনাকে মিথ্যা বলবো কেন?
-ঠিক আছে। তোর মোবাইল নাম্বারটা দে।
-ভাইয়া, ওর কাছে আছে। কিন্তু আপনি ওরে বলিয়েন না।
-ও! তলে তলে এতদুর, আর আমরা জানলে দোষ?
-ভাই, তুই কইরে!? দাড়া, আমি আইতাসি!
ভাইয়া তখনই আমাকে ইঙ্গিত দিলেন। কিন্তু, আমি বুঝলাম না। বললেন, সন্ধ্যায় বলবেন। আমি কিছু না বুঝতে পেরে, প্রিয়তিকে ফোন করলাম, কিন্তু ও বললো, ও নাকি কিছু জানেই না!

সন্ধ্যায় ভাইয়া ফোন দিয়ে অনেক বকা দিলেন! বললেন, গর্দভ! একটা মেয়ের মন বুঝিস না এখনও! তাড়াতাড়ি প্রপোজ কর! আমি তো হতভম্ব! বলে কি রে! বললাম, ভাইয়া, তাইলে তো সব শেষ। ভাইয়া আমাকে আরেকটা ঝাড়ি দিয়ে বললেন, তোরে এত কথা বলতে বলসি, ভিতুর ডিম? প্রপোজ করতে বলসি, প্রপোজ করবি, ব্যাস। আমি মিন মিন করে বললাম, ঠিক আছে। তবে, কিছু হলে আপনার দোষ! অল দ্যা বেস্ট বলে ফোন রেখে দিলেন তিনি। বুঝতে পারছিলাম, ও-ই ভাইয়াকে বলেছে। নয়তো, ভাইয়া জানতো না এত কিছু।
একটু পরেই ও ফোন দিল। বললো, ভাইয়া কিছু বলেছে? বললাম, হূম! বলল,
-কি বলেছে?
-বলতে সাহস পাচ্ছি না!
-সাহস না পেলে থাক! বলা লাগবে না।
-না না! এখন না বললে, আর জীবনেও বলতে পারবো না। তাছাড়া বড় ভাইয়ের আদেশ বলে কথা। বলেই ফেলি, কি বলো?
-না না! প্লিজ বলিও না।

দুষ্টুমি করতে করতে এক ঘন্টা পেরিয়ে গেল। তারপর ফোনেই প্রপোজ করলাম। সে কিছুতেই এখানে জবাব দিতে পারবে না! চ্যাটে আসতে বললো। এলাম, লিখলো-
"আমি বলবো না, আমিও তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু জানো, তোমাকে ছাড়া আমার কিছু ভালো লাগে না। সারাদিন তোমার ফোনের অপেক্ষায় থাকি, তোমাকে চ্যাটে না পেলে অস্থির লাগে, তোমার ভালোবাসায় সিক্ত হতে ইচ্ছে হয়। এসবের মানে যদি ভালোবাসা হয়, তবে, হ্যা। আমিও তোমাকে ভালোবাসি, "আই লাভ ইউ ঠু"।

অবশেষে, আমি পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম! তারিখটা আজও মনে আছে! আমরা এখন অনেক অনেক হ্যাপি একটা কাপল। আমাদের জন্য দুআ করবেন প্লিজ। ধন্যবাদ। :) (সমাপ্ত)

**আমি অনেক অনেক ভাগ্যবান, দুইটা কারনে। এক. যাকে চেয়েছি, এতদিন ধরে, তাকেই পেয়েছি আপন করে। দুই. তাকে ঠিক তেমনটিই পেয়েছি, যেমনটি কল্পনায় সাঁজিয়েছিলাম- অনেক বেশি কেয়ারিং, আদুরে, বিশ্বস্ত আর রোমান্টিক। দ্বিতীয়টির জন্যই আমি বেশি খুশি। মনের মত একজনকে খুঁজে পাওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যপার। আমরা দু'জন এখন অনেক হ্যাপি একটা কাপল, দু'জন মিলে স্বপ্নজাল বুনে চলেছি প্রতিনিয়ত।

উৎস্বর্গঃ নো আদার দ্যান ফয়সাল ভাই। এই মানুষটিই আমার প্রেমের রূপকার। প্রতিটা ক্ষেত্রে সম্পূর্ন মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন তিনি। অসম্ভব ভালো একজন মানুষ। সারাক্ষন মাতিয়ে রাখেন সবাইকে। তাই এই 'গেম চেঞ্জার'কে এই গল্পটি উৎস্বর্গ করতে দ্বিতীয় বার ভাবতে হয়নি আমার। ভালো থাকুন ভাইয়া। আজীবন সুখে থাকুন। হ্যাটস অফ। :)

No comments:

Post a Comment