Friday, October 5, 2012

১.

১.
-আপনাকে কতবার বলেছি আমাকে ফোন দিবেন না। আপনি আমার ধর্মের ভাই হন । আমাকে আর জ্বালাবেন না। তূলি গর্জে উঠার পর ঠাণ্ডা হয়ে কথাটা বলে। তুলির মেজাজটা ইদানিং অল্পতে গরম হয়ে যায়, অল্পতে মেজাজ গরম হওয়া ভালো লক্ষন না। তুলির গলার স্বরটা যত নরম 
হয়, অপর প্রান্ত হতে মিষ্টি কণ্ঠে অনুনয় ঝরে পরে।

-প্লিজ আপনি রাগ্ করবেন না ।মানুষকে রাগানো ইতর প্রজাতির লোকের কাজ ।আমি ইতর না, আমি Homo sapiens. ভালবাসার রঙ রুপ অদ্ভুদ। আপনার ভালবাসার রঙ আমার অস্তিতে ঢুকে গেছে। আমি আপনার ভালবাসার বৃত্ত হতে বের হতে পারছি না। দয়া করে এ অধমের আরজি মাথায় নেন আমাকে তুমি করে বলার অনুমতি দেন ।

তুলির মেজাজ গরম হচ্ছে , লোকটাকে কঠিন কিছু কথা বলতে হবে সহজ কথায় কাজ হবে না। কিন্তু কাউকে হঠাৎ করে কঠিন কথা বললে action কম হয়। প্রথমে সহজ কথা বলে তারপর কঠিন কথা বলতে হয়, তলে reflex ভাল হয় তুলি বলে ভাইজান অনুমতির কথা বাদ দেন , আপনি কি সকালে নাস্ত করেছেন ?
-জী না ,সকালে নাস্তা করতে পারি নাই, তবে ইজাজত দিলে নাস্তা করব। আপনাকে ফোন না দিলে আমার নাস্তা হজম হয়না, vomiting হয়।
-সমস্যা নাই আমার কাছে vomiting এঁর বড়ি আছে। লোক মারফত নিয়ে যাবেন আর ঠিকঠাক মত নাস্তা করবেন । নইলে শুকিয়ে যাবেন , শুকনা , মানুষ আমার পছন্দ না। বোঝা গেল ।
-জী আচ্ছা।
-যে মানুষটাকে তুমি করে বলতে চান তার সাথে জী আচ্ছা করে কথা বলার দরকার নাই। ঠিক আছে ।
সহজ কথা অনেক হইছে এবার কঠিন কথা উদগীরন করতে হবে । তুলি বলে , জনাব আপনি এত সকালে ফোন দিয়ে disturb করতেছেন । আপনাকে তো সকাল বিকাল দুইবেলা করে নিয়মিত ঝাড়ুপেটা করা উচিত। আপনার গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে মাথা ন্যাড়া করে সারা বাংলাদেশ সাত বার ঘুরানো দরকার।
-তুলি তুমি হঠাত এরকম করছ কেন ? তোমার কি হইছে ?
-হারামি আবার কথা বলছ । এত্ত সাহস তোর নাম ধরে ডাকছ। তোর সাথে এরকম কথা বলব নাতো কি প্রেমের কথা বলব। আর কোনদিন ফোন দিলে তোর হাড্ডি ভেঙ্গে ফেলবো।ইতর ছোটলোক .।.।.।.।.।.।.।.।.।.।. রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে রেখে দেয় তুলি

২.
সকাল বেলা মন খারাপ হলে তুলির কিছুই ভালো লাগসান। তার উপর আজকে মতিন সারের ক্লাস । ভার্সিটিতে মতিন সারের ক্লাস মানে যমের সামনে বসে থাকা। সার ক্লাস এ ঢুকে একটা কাশি দিবেন। তারপর বলবেন, উপস্থিত বন্ধু বান্ধবীগণ , আপনাদের বহুবার বলেছি আজো আবার বলছি , আমি এমনিতেই ভালো পরাই না। তার উপর আপনারা শব্দ করলে মনোযোগের ব্যাঘাত হয় । মনোযোগের ব্যাঘাত নিয়ে ভালো পড়ান যায় না। তাই এই কাশিটাই শেষ অপ্রীতিকর শব্দ। তারপর ক্লাস এ পড়া ধরবেন, না পারলে মিষ্টি করে বলবেন , মা জননী আপনার বোধহয় ক্লাসে মন নাই। আপনি দয়া করে বের হয়ে যান। অতঃপর ভাইভা পরীক্ষায় নির্ঘাত ফেল।

তুলি বেলকোনী থেকে ফিরে এসে তার টেবিলে তিনটা ফুল ও একটা চিরকুট দেখতে পায়। দুটি গোলাপ একটি জবা। গোলাপ তুলির খুব প্রিয় ফুল, জবা চরম অপছন্দের । তুলি চিরকুটটা পড়তে থাকে,

প্রানের অধিক প্রিয়,

আপনার কথামতো নিয়মিত নাস্তা খেতে শুরু করেছি । প্রতিদিন সকালে ৫ টা , বিকেলে ৫ টা , রাতে ৫ টা করে ডিম ভোজন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছি । আপনি জেনে আর খুশি হবেন যে বিগত এক সপ্তাহে আমি তিন কেজি ওজন প্রাপ্ত হয়েছি । পছন্দ ও অপছন্দের বস্তু পাশাপাশি থাকলে মিশ্র অনুভুতি হয়। তাই জবা ও গোলাপ একসাথে পাঠালাম। আমি কবে তোমার পছন্দের পাত্র হবো জানিনা, অপেক্ষায় রইলাম। চিত্তাকর্ষ পত্র লিখে তোমার সময় নষ্ট করব না ।শেষ করলাম ফী আমানিল্লাহ ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ তোমার সিম change করায় বিপাকে পরেছি । ইনশাআল্লাহ যোগাড় হয়ে যাবে। কারন প্রেমের মরা জলে ডুবে না.।.।.।.।.।।।

তুলির চোখ কপালে উঠছে, তার কপালের ভাজ বাড়ছে । একজন মানুষ এতটা বিরক্তিকর হতে পারে না। এই সামনে পেলে তুলি এক হাজার একটা চড় মারত । বিশ্রী রকমের আদি ভাষায় পত্র লিখে মেয়ে পটানো । তার উপর বেড রুমে ফুল রেখে যাওয়া। এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে ।বাসার কেউ এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারে না। এবার ও কেউ কিছু বলতে পারবে না । তুলির রাগ ক্রমশ বাড়তেছে ।তুলির রাগ এখন ১০ এঁর স্কেলে ১১;০৫। তাই আজ মতিন সারের ক্লাস করা হবেনা। আজ শুভর সাথে ঘুরতে যেতে হবে।

৩.
আপনাকে কিভাবে অপমান করলে আপনি আমাকে ফোন দিবেন না। আপনার যন্ত্রণায় আমি পাঁচ বার সিম পরিবর্তন করেছি ।মানুষকে যন্ত্রনা দিয়ে আপনার কোন লাভ আছে ,তুলি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে।

অপর কণ্ঠের জবাব , অপমান করা ভদ্র মানুষের কাজ না ।যেহেতু আমি আপনাকে ভালবাসি তাই আমি আপনার অপমান সহ্য করব। কারন যখন আপনি আমার বউ হবেন তখন তো আর অপমান করবেন না।

-আপনার মতো ইতর ছোটলোক নিম্ন প্রজাতির প্রানিকে কে বিয়ে করবে!! আমি!!!খামকা আমারে বিরক্ত করভেন না। আপনার পায়ে পড়ি।
-দেখো ,তুলি তোমাকে আমার ভালো লেগেছে ,তমের জন্য যদি একশ বছর সাধনা করতে হয় করব। তোমাকে না পেলে ছয় তলার উপর হতে লাফ দিব
-আপনি বরং এভারেস্ট এঁর উপর হতে লাফ দেন জনপ্রিয় হয়ে যাবেন।শুন তোঁকে আপনি আপনি বলে বলছি বলে তোর গায়ে লাগছে না।তুই একশ বছর কেন এক কোটি বছর সাধনা করলেও আমার মনের একশ কোটি গজের মধ্যে আস্তে পারবি না।তোর সাথে দেখা হলে এক হাজার একটা থাপ্পড় দিতে ভুলব না।বুঝলি।তুই এবার ফোন রাখ,তর সাথে প্যাঁচাল পারার টাইম নাই। অপদার্থ ...

তুলি ফোন রেখে দেয় ।তুলি এখন পড়তে বসবে। উত্তপ্ত মগজে পড়া উত্তম।তুলি রিডিং রুমের দিকে চলে যায়। শুভকে একবার ফোন দেয়া দরকার।

৪.
তুলি সাজতে বসেছে । তুলি ও শুভের রিলেশনের তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম তাঁরা একসাথে পালন করতে পারবে। প্রথম বার শুভ আমেরিকাতে ছিল, দ্বিতীয়বার শুভর ফ্রেন্ড এঁর হয়... তুলি মনে প্রানে কামনা করে এ বছর যেন এ রকম কিছু না হয়।তুলি শুভকে ফোন দেয়।

-এই শুন দশটা এক মিনিটে থাকবা ।এক সেকেন্ড দেরি হলে দশ বার কান ধরে উটবস করতে হবে ।
-তাহলে তো আমাকে একশ দশবার কান ধরে উটবস করতে হবে ।কারন আমার দশ সেকেন্ড দেরি হবে।
-ফাজলামি রাখো ,আজ আমরা সারাদিন ঘুরে বেড়াব কোন অজুহাত চলবে না , বুঝছ ইন্দুরটা ।
বাই বলে ফোন রেখে দেয় তুলি।

৯ টা ৫০ মিনিটে রেস্টুরেন্ট এ ঢুকে তুলি দেখে শুভ এক কর্নারে বসে আছে ।জিন্স আর টি শার্ট এ শুভকে অনেক কিউট লাগচে।তুলি বলে,
-তোমাকে আজকে অনেক সুইট লাগছে কারন আজ প্রথম তুমি আমার আগে এসেছ ।এখন বল তুমি কি খাবা আজ যা খাবা তার বিল আমার।
-কিছু খাব তবে ------------
-তবে কি বলে ফেল
-জানিনা তোমার শুনতে কেমন লাগবে,শুনার পর আমাকে কি ভাববা কিন্তু গত ছয়মাস ধরে আমি বিষয়টা নিয়ে ভাব-----
-ভনিতা না করে শর্টে বলো।
-তুলি আমার এসব ভালো লাগে না।এই ঘণ্টায় ঘণ্টায় তোমাকে ফোন দেয়া কোথায় গেলে এস-এম-এস করা ।আমি আর পারছি না।
-মানে?
-মানে আমি পারছি না ।তোমার তো সমস্যা নাই ,তোমার জন্য তো একজন এক পায়ে খাড়া ।তার উপর তুমি তো জান আমার স্বপ্ন আমেরিকাতে সেটেল হওয়া ।আমার খালাতো বোন সোনিয়া আমেরিকাতে থাকে ও আমাকে অনেক পছন্দ করে--------
-তার মানে তুমি রিলেশন রাখতে চাচ্ছ না।
-আমি CONFUSED তুলি।
-YES OR NO
-YES
তুলি উটে দাঁড়ায় ।শুভ বলে,এই চিরকুটে আমার সব কথা লিখা আছে ।তুমি রেস্টুরেন্ট এঁর বাইরে গিয়ে এটা পরবা। পরে যদি মনে হয় ,আমি ঠিক আছি তবে এসে একটা ধন্যবাদ দিবা, ঠিক আছে ।

তুলি চিরকুটটা নেয় ,ওর চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল পড়তে থাকে ।শুভ খলখিল করে হাস্তে থাকে ।একটা মানুষ এত কষ্ট দিতে পারে ।রেস্টুরেন্ট এঁর বাইরে এসে তুলি চিরকুটটা পরতে থাকে ।

প্রানের অধিক প্রিয়

আমাকে চিনতে পারছ ,তুলি তুমি না অনেক বোকা বুঝছ----- ।
এজন্য আমি তোমাকে আত ভালবাসিরে পাগলী। তুমি জানতে না আমি কণ্ঠ পরিবর্তন করে কথা বলতে পারি। পাগলী তোমাকে নতুন করে ভালবাসার ফাদে ফেলতে চেয়েচিলাম। দেখলাম তুমি আমায় এত্ত ভালবাস যে আর কেউ কোনভাবে তোমাকে পটাতে পারবে না। তোমাকে অনেক বেশি কষ্ট দিলে তুমি কি কর তা দেখতে চাইলাম। আর এজন্য তোমার জন্মদিন কে বেছে নিলাম।কারন অনেক কষ্টের পর অল্প সুখকে বেশি মনে হয়।পাগল আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি----জানিনা যে কষ্ট দিলাম সেটা ঠিক কিনা তবে তোমাকে আজকের আনন্দটা বুঝানোর জন্য করেছি ।

প্লিজ আর রাগে না লক্ষ্মীটি আমার দিকে তাকাও প্লিজ...

বি দ্রঃ শুন না আজকে এ রেস্টুরেন্ট টা ভারা করেছি। শুধু তুমি আমি ----------। তারপর লং ড্রাইভ এ বের হব, বিকেলে প্রেম যমুনার ঘাটে যাব । হাসো নারে একটু হাসো প্লিজ...

অশ্রু মুছে রেস্টুরেন্ট এ ঢুকে তুলি, দেখে শুভর একহাতে গোলাপ অন্যহাতে প্ল্যাকার্ড। সেটাতে লেখা , WHAT I THINK , WHAT I FEEL I CANT SAY U SEE MY EYE AND READ IT HAPPY BIRTHDAY TO U এক হাজার একটা থাপ্পড় না দেয়ার জন্য এক হাজার একটা গোলাপ।

আনন্দে আর একবার তুলির চোখে অশ্রু আসে । তুলি চিৎকার করে বলে, I LOVE U SHUVO. I LOVE U VERY MUCH. I CANT LIVE WITHOUT U...

ফিদাতো মিশকা

No comments:

Post a Comment